হোটেল বয় থেকে যুবলীগ নেতা জাকিরের সাড়ে ৫ কোটির অ’বৈধ সম্পদ

যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোটেল বয় খ্যাত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দু’র্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ জন্য সংস্থার সহকারী পরিচালক সাইফুল ইস’লাম বাদী হয়ে বুধবার এ যুবলীগ নেতার বি’রুদ্ধে ঢাকা সমন্বিত জে’লা কার্যালয়-১ এ মা’মলা দায়ের করেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মক’র্তা প্রণব কুমা’র ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মা’মলার অ’ভিযোগে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া তথ্য মতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চলতি, সঞ্চয়ী ও এফডিআর হিসাবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা আছে। ২০১৮-১৯ কর বর্ষে তিনি তার আয়কর নথিতে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার সর্বমোট ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্জনের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

এজাহারে আরও বলা হয়, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অ’বৈধ ব্যবসা থেকে জাকিরের অ’বৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য দুদকের হাতে আছে। মা’মলার ত’দন্তের সময় প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো আমলে নেয়া হবে। জাকিরের নামে কেনা আরও সম্পদের তথ্য দুদকের হাতে থাকলেও এ সংক্রান্ত নথির সন্ধান করছে সংস্থা। যদিও অ’ভিযোগে আরও কিছু সম্পদের তথ্য রয়েছে। যেগুলোর বিষয়ে দুদকের ত’দন্ত চলমান।

তার মধ্যে কয়েকটি হলো- রাজধানীর পুরানা পল্টন ও বিজয়নগরে তার তিনটি বাড়ি আছে। রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর ও সিদ্ধেশ্বরীতে ফ্ল্যাট আছে ২৮টি। গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আছে ১০০ কাঠা জমি। কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের যে ভবনটিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই ভবনের চতুর্থ তলাও জাকিরের কেনা। সেখানেই সম্রাট প্রথমে তার অফিস করতেন। পরে ওই ভবনের অন্য তলাগুলোও দখলে নেয়া হয়। জাকির হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য।

হোটেল বয় জাকিরের উত্থান যেভাবে

১৯৭৪ সালে বাস্তুহারা জাকিরের পরিবার বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় তাদের ঠিকানা হয় ডেম’রার চনপাড়া বস্তিতে। ওই বস্তিতে বেড়ে ওঠেন জাকির। ১৯৯১ সালের দিকে জাকির কাকরাইল এলাকায় পায়েল নামে একটি রেস্টুরেন্টে দৈনিক ৩০ টাকা বেতনে গ্লাস বয়ের কাজ নেন। এক বছর পর গ্লাস বয়ের কাজ ছেড়ে মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের তৃতীয় তলায় ‘টনি ফিল্ম’ প্রতিষ্ঠানের পিয়ন হিসেবে। ওই সময় আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা ছিল কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের নিচে ‘হোটেল ম্যারাডোনা’কে কেন্দ্র করে। সেখানেই ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে পরিচয় হয় জাকিরের। এরপর তারা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। সম্রাট যাদের দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা চালাতেন তাদের মধ্যে জাকির অন্যতম।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *