Breaking News

মিয়ানমা’র থেকে পেঁয়াজের কেজি ৩২ টাকায় কিনে ২৩০ টাকায় বিক্রি

টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমা’র থেকে আম’দানি করা পেঁয়াজ ট্রাকে ওঠা পর্যন্ত কেজিতে ৪০-৪৫ টাকা খরচ পড়লেও সেই পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ২০০-২৩০ টাকা। এভাবে কেজিতে লাভ হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা।

কক্সবাজারের পু’লিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ দুই মাস ধরে মিয়ানমা’র থেকে পেঁয়াজ আম’দানি বাড়লেও টেকনাফ-কক্সবাজারের স্থানীয় বাজারে বাড়তি আম’দানির কোনো প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন সময় ‘সিন্ডিকে’টের কারসাজি’র কথা উঠলেও বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। কিন্তু গত বুধবার (৪ ডিসম্বের) অ’জ্ঞাত এক ফোনের মাধ্যমে সিন্ডিকে’টের কারসাজির বিষয়টি নজরে এলে টেকনাফ থা’না পু’লিশের পরিদর্শক (অ’পারেশন) রাকিবুল ইস’লামকে দ্রুত ত’দন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, হঠাৎ বন্দরে গেলে ওসি রাকিবকে বন্দর কর্তৃপক্ষ অসহযোগিতা করে। পরে উখিয়া সার্কেলের অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ানের নেতৃত্বে পু’লিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বন্দরে প্রাথমিক ত’দন্তে দেখতে পায়, আম’দানির সঙ্গে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের কোনো মিল নেই। সিন্ডিকেট আম’দানির কাগজপত্রে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ আনার চিত্র দেখালেও বাজারে ছাড়া হয়েছে সামান্য। এভাবে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নেয়া হয়েছে। অথচ মিয়ানমা’রে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা হয়েছে মাত্র ৩২ টাকায়।

পু’লিশের ত’দন্তে উঠে এসেছে প্রতারণার ভ’য়াবহ চিত্র। আম’দানিকারক, শুল্ক কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজন একী’ভূত হয়ে দেশের পরিস্থিতি বেসামাল করছে আর সাধারণ মানুষকে ঠকাচ্ছে।

অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান জানান, ত’দন্তে দেখা গেছে গত অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে ৪২ হাজার ৪০৩ টন পেঁয়াজ আম’দানি করা হয়েছে। হিসাব মতে, দৈনিক গড়ে ৭০০ টন পেঁয়াজ মিয়ানমা’র থেকে আম’দানি হয়। আম’দানির নথি, বিল অব এন্ট্রি পর্যন্ত ঠিক দেখানো হলেও সিন্ডিকেট কারসাজিতে বাস্তবে কি পরিমাণ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়া হয়েছে তার কোনো প্রমাণ সংশ্লিষ্টরা দেখাতে পারেননি। আম’দানির কাগজ মিললেও বন্দর থেকে ট্রাকে ডেলিভারির কোনো কাগজ বা প্রমাণ নেই। এমনকি গত ২৫ নভেম্বর এক হাজার বস্তা ও ৩০ নভেম্বর এক হাজার ৮০০ বস্তা আম’দানি করা পেঁয়াজের কোনো হদিস বন্দর, আম’দানিকারক এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।

এদিকে বিষয়টি নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের জে’লা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন টেকনাফ সীমান্তের পেঁয়াজ সিন্ডিকেট ও আম’দানির জালিয়াতি-প্রতারণার ত’দন্তে একটি টাস্কফোর্স ত’দন্ত কমিটি গঠন করেন। অ’তিরিক্ত জে’লা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাজাহান আলীকে প্রধান করে একজন পু’লিশ কর্মক’র্তা ও টেকনাফ উপজে’লা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে তিন কর্ম’দিবসের মধ্যে ত’দন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পেঁয়াজ নিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রচার পাওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। সচেতন মহলের মতে, সংকট’কালীন বিনা শুল্কে পেঁয়াজ আম’দানির সুযোগ পেয়ে হাজার হাজার ডলার মিয়ানমা’রে পাচার করছেন আম’দানিকারকরা। সেই সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোক্তা সাধারণকে হয়’রানি ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আম’দানিকারকের সংখ্যা ৩৫-৪০ জন। সিন্ডিকেট না হয়ে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পেঁয়াজ আম’দানি হলে মিয়ানমা’রের পেঁয়াজেই দেশের বাজারের সংকট অনেকখানি নিরসন করা সম্ভব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তে ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, আম’দানি করা কিছু পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে ছাড়া হলেও বাকি পেঁয়াজ মিয়ানমা’রের গুদামেই মজুত থেকে যায়। সংকট বিরাজ রেখে ‘সিন্ডিকেট’ কেজিতে ১৬০-১৮০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

অ’ভিযোগ স’ম্পর্কে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মক’র্তা মো. আবছার উদ্দিন বলেন, জাতীয় চাহিদার ভোগ্যপণ্য হিসেবে পেঁয়াজ আম’দানির যে কোনো কাগজ এলেই দ্রুত পাস করে দেয়া হচ্ছে। কোনো আম’দানিকারক ক্রয় করা পেঁয়াজের বিপরীতে পরিবহন ছোট পেলে দুই ধাপে মালামাল আনতে বাধ্য হন। তখন হয়তো দিন ক্ষেপণ হয়, যা আম’দানি হয়েছে তা সরবরাহ হওয়ার কথা।

About admin

Check Also

মহানবী সা. এর ক;টূক্তিকা’রীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃ;ত্যুদ;ণ্ডের আইন পাস করা হক সকল আলেমগনের দাবি

ফেইসবুকে হযরত মোহাম্মাদ সা. কে কটুক্তিকারী যবিপ্রবি শিক্ষার্থী মিঠুন মন্ডলের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে যশোরের দড়াটানা এলাকায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *