ভারতকে বাঁচালেন আদিল খান, জেতা ম্যাচ ড্র করল বাংলাদেশ

মঙ্গলবারের যুবভারতীতে মোক্ষম সময়ে মহাভুল করে বসলেন ভারতের শেষপ্রহরী। জামাল ভুঁইয়ার বিষ মেশানো ইনসুইং ফ্রি কিকটা বুঝতেই পারলেন না তিনি।সাদউদ্দিন হেডে গোল করে এগিয়ে দেন বাংলাদেশকে। ম্যাচের বয়স তখন ৪২ মিনিট। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ যুবভারতী। প্রিয় দলের জয় দেখার জন্যই তো সেই বিকেল থেকে ভর্তি ছিল যুবভারতীর গ্যালারি। ভক্তদের শব্দব্রহ্ম তো ফুটবলারদের রক্তের গতি বাড়িয়ে দেয়। আরও ভাল খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। অথচ রেফারির বাঁশি বাজার শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে শুরু করে ভারত।

ইস্টবেঙ্গলে থাকার সময়ে এই গুরপ্রীতের গোলকিপিং কোচ ছিলেন এশিয়ান অল-স্টার খ্যাত গোলকিপার অতনু ভট্টাচার্য। শিষ্যের গোল হজম করার ধরন দেখে বিরক্ত তিনি। বললেন, ‘‘গোল খেয়ে গোটা দলটাকে চাপে ফেলে দিল গুরপ্রীত।’’

এই যুবভারতীতে অতীতে গুরপ্রীতের ভুলে ডুবতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। আই লিগে ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচে গোল করার নেশায় শেষ মুহূর্তে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে উঠে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরের ঘটনা ইতিহাস। ইউনাইটেড স্পোর্টসের স্ট্রাইকার কেন ভিনসেন্ট বল ধরে ছুটতে ছুটতে গিয়ে গোল করে জিতিয়ে দিয়েছিলেন ইউনাইটেডকে।

এই যুবভারতীতেই মোহনবাগানের প্রাক্তন তারকা ওডাফা ওকোলির পেনাল্টি বাঁচিয়ে নায়ক বনে গিয়েছিলেন ভারতের বর্তমান গোলকিপার। এ দিন একাধিক বার তিনি ভুল করে বসেন। একবার তো আদিল খান গোললাইন থেকে বল বাঁচিয়ে কোনওরকমে বাঁচান ভারতকে। আদিল খানই শেষ পর্যন্ত ভারতকে বাঁচান। স্তিমাচকে স্বস্তি দেন। কর্নার থেকে তাঁর বিষাক্ত হেডে সমতা ফেরায় টিম ইন্ডিয়া। খেলার শেষে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে-র মুখে চওড়া হাসি। অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে তিনি দেশে ফিরছেন।

স্তিমাচের ভারত হোম ম্যাচগুলোই জিততে পারছে না। ওমানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে এগিয়ে থেকেও হেরে গিয়েছিল। এ দিন ড্র করে মাঠ ছাড়তে হল ভারতকে। হতাশ সুনীল ছেত্রী। হতাশ যুবভারতীতে উপস্থিত দর্শকরাও। তাঁরা তো গিয়েছিলেন প্রিয় দলের জয় দেখতে। বিশ্বকাপের যোগ্যতা পর্বে জয় এখনও অধরা ভারতের। তথ্য ঃ আনন্দবাজার

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *