বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসান, বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব!

গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ৮ হাজার কোটি ১৪১ টাকা লোকসান গুনেছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয় বোর্ড (পিডিবি)। ফলে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক পর্যায়েও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করছেছে প্রতিষ্ঠানটি।

উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করায় এমনটি হয়েছে বলে দাবি করেন পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ। লোকসানের হিসাব দেখিয়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

পিডিবি চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছর রেকর্ড ৮ হাজার কোটি ১৪১ টাকা লোকসান গুনেছে পিডিবি। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে জ্বালানি ব্যয় চেয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যয় অনেক কম। গ্যাসের ঘাটতির কারণে ব্যয় বেশি দিয়ে বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পরিচালিত হচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহ কমের কারণে গত বছর আগস্ট থেকে সরকার এলএনজি গ্যাস আমদানি ও সরবরাহ করছে। ফলে চলতি বছর জুলাইয়ে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ৪১% হারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে করে ২০২০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। গত জুলাইয়ে কয়লার ওপর ৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ঘণ্টায় ৬ হাজার ৭৯ কোটি ৬২ লাখ কিলোওয়াট। গত অর্থবছর বেড়ে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ৬ হাজার ৮৬১ কোটি ৬৩ লাখ কিলোওয়াট । চলতি অর্থবছর সম্ভাবনা ঘণ্টায় ৭ হাজার ৫৮৭ কোটি ৪৬ লাখ কিলোওয়াট। ২০২০ সালে এ পরিমাণ দাঁড়াবে ঘণ্টায় সাত হাজার ৯২০ কোটি ৬২ লাখ কিলোওয়াট।

এদিকে সঞ্চালন লস বাদ দিয়ে ২০২০ সালে পিডিবির বাল্ক বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি তিন লাখ ইউনিট। এতে পিডিবির সম্ভাব্য আয় দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ৬৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এতে ঘাটতি থাকবে প্রায় ৮ হাজার ৫৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

২০২০ সালে পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৫ টাকা ৮৮ পয়সা। তবে সে সময় বাল্ক ট্যারিফ আরও কমে দাঁড়াবে ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। এতে প্রতি ইউনিটে পিডিবির ঘাটতি দাঁড়াবে ১ টাকা ১১ পয়সা। এ ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। এজন্য বিদ্যুতের বাল্ক মূল্যহার পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে পিডিবি।

পিডিবির প্রস্তাবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ উল্লেখ করা না হলেও তাদের প্রস্তাবিত হারে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের মূল্য বাড়াতে হবে ১ টাকা ৩৭ পয়সা। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে ইউনিট-প্রতি ৩৫ পয়সা বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ১২ অক্টোবর পিডিবি, বিইআরসি ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে গত অর্থবছরে বিদ্যুতে ভর্তুকি ও লোকসান বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ওই সভায় পিডিবিকে বিদ্যুতের বাল্ক মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সূত্র থেকে জানা যায়, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের শুরু থেকেই বর্ধিত মূল্যহার কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে। কথাও সভায় জানানো হয়। এজন্য এবার পঞ্জিকা বছরভিত্তিক প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের মনোভাব যাচাই করে দেখবে বিইআরসি। চলতি অর্থবছর ও আগামী অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ খাতে কতটা ভর্তুকি দিতে চায় তার উপর বিবেচনা করে মূল্যহার সমন্বয় করবে কমিশন।

tweetbangla

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *