‘বাড়তি বিলের জন্য মন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানোর দরকার নেই’

বিদ্যুতের বাড়তি বিলের জন্য সাধারণ মানুষের মন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানোর দরকার নেই জানিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, আপনারা স্ব স্ব অফিসে অভিযোগ করেন। তারা যদি না দেখে শেষ মুহূর্তে আমরা আছি।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

মিটারের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের সম্পর্ক নেই, বিতরণ কোম্পানি আপনার নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত মানছে না- এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি না মেনে থাকে কোনো নির্দেশ, আমার বরাবর অ্যাপ্লাই করলেই হবে।

‘আমি সমস্ত বিতরণ কোম্পানিকে বলেছি, যারা লিখিতভাবে অভিযোগ করছেন, অভিযোগ যখন মেইন ওয়েবসাইটে যায় সেটার কপি আমার কাছেও আসে। কতগুলো সলভ হলো সেগুলোর রিপোর্টও আমার কাছে আসে। আমি কিন্তু দেখছি। এছাড়া আমাদের গ্রাহক প্রায় চার কোটি। এরমধ্যে অভিযোগ ৪ থেকে ৫টা। এটা আমি মনে করি সমাধান করা বিষয় না।’

যাদের বিল নিয়ে অভিযোগ, তারা আপনার কাছে লিখিত অভিযোগ করার জন্য বলেছেন, এটা কতটুকু ভিজিবল, একজন মন্ত্রীর কাছে সম্ভব কিনা- প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের যে বিদ্যুৎ অফিসগুলো আছে সেখানে অভিযোগ করবেন। প্রোপার ওয়েতে যদি তারা সন্তুষ্ট না হন, সংস্থা প্রধানের কাছে অভিযোগ করবেন। সেখানেও যদি স্যাটিসফাইড না হন, তাহলে তো আমি আছি। আমার কাছে সরাসরি অভিযোগ করবেন। আমি এখন পর্যন্ত আমার মেইলে অভিযোগ আকারে পেয়েছি সবমিলে ১২-১৩টা।

মানুষ তো আপনার মেইলও জানে না- এ প্রসেঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে গেলে পাওয়া যাবে।

সাধারণ মানুষ তো এত কিছু চিন্তা করে না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন নেই মন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানোর। সবাইকে বলব, আপনার স্ব স্ব অফিস আছে, সেখানে অভিযোগ করেন। যদি না দেখেন তার উপরে যারা আছেন তারা দেখবেন। সেখানেও যদি না দেখা হয় শেষ মুহূর্তে তো আমরা আছি।

তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল এক সঙ্গে নেওয়া বারডেন হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ভিন্ন ভিন্নভাবে দিতে বলেছি। কিন্তু ৩০ জুনের মধ্যে বিলগুলো পরিশোধ করতে হবে।

জ্বালানি তেলের দাম কমছে কি-না?
বিশ্ববাজারে কমে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেবেন কি-না, প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এখনও ওই সুবিধার জায়গায় যেতে পারিনি। কারণ আমাদের আগের তেলগুলো এখনও বিক্রি করার সুযোগ পাইনি। আমাদের জ্বালানি ব্যবহার হয়নি। আমরা আশা করছি যদি জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত করতে পারি এবং এখনকার সুবিধা অনুযায়ী জ্বালানি আনতে পারি তাহলে সরকার ভবিষতের কথা চিন্তা করে বিবেচনা করবে। কিন্তু এটা সরকারের ওপরে নির্ভর করছে।

তিনি বলেন, পুরনো তেল রয়ে গেছে। সেজন্য ব্যবহার বাড়াতে হবে। আমি চাই যতটা কমফোর্ট হওয়া যায় তেলে। কম দামে তেল এনে ব্যবহার করলে পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু করলে বিদ্যুতের দাম কম হতো। কিন্তু কোভিড-১৯ এর কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই বছরে খুব বেশি সুবিধা হবে না।

বাজেট ৩০ হাজার কোটি টাকা
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগের বাজেট প্রস্তাবনা হলো ২৭ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা। আর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য তিন হাজার ১৩৮ দশমিক ৬৫ কোটি টাকা। মোট ৩০ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন এবং এরপরে কারিগরি ও উৎপাদনে। বাকি বরাদ্দ মেগা প্রকল্পে ব্যয় হবে। বিদুতের ক্ষেত্রে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজাশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল বিভাগে শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য অর্থ ব্যয় হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি পার্বত্য চট্টগ্রামে।

আর জ্বালানি বিভাগের গ্যাস ও সঞ্চালন প্রকল্পে বেশি ব্যয় করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী
banglanews24

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *