সাভারে মসজিদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ: মাছ মেরে পুকুর দখলের চেষ্টা ছাত্রলীগ কর্মী নুরুজ্জামান বাহিনীর

মসজিদের পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে পুকুর দখলের চেষ্টা করেছে চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও তার সহযোগীরা।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) সাভারের ভবানিপুর দক্ষিনপাড়া জামে মসজিদের দখলে থাকা পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ছাত্রলীগের ক্ষমতা ব্যাবহার করে দখলের চেষ্টা চালিয়েছে ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান ও তার ক্যাডার বাহিনী।

এঘটনায় মুসুল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ এর সৃষ্টি হলে শুক্রবার জুমার নামাজের পরে স্থানীয়ভাবে শালিস বসে।

এ সময় সালিশে আসা স্থানীয় মুসুল্লিদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়, হামলায় অংশ নেয় ভবানীপুর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে কথিত ছাত্রলীগ কর্মী নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে ওই গ্রামের কেরালীর ছেলে জলিল মিয়া, ভোলা মিয়ার ছেলে আমজাদ মিয়া, আব্দুর রহিমের ছেলে জাকির হোসেন, জলিল মিয়ার ছেলের জুয়েলে রানা।

তাদের দাবি তারা সবাই ছাত্রলীগ কর্মী ।

এসময় গুরুতর আহত হন মুসুল্লী শরিফ, আরিফ, আশরাফুল ও সাদ্দাম হোসেন সহ বেশ কয়েকে জন।

এঘটনায় পর থেকে নুরুজ্জামান ও তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা আত্ম-গোপনে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মসজিদের পাশের এই পুকুরটি খাস খতিয়ানের সরকারি জমি, প্রায় শত বছর ধরে মসজিদের আওতায় রয়েছে পুকুরটি । ১’শ শতাংশের এই পুকুরটিতে প্রথমে মসজিদ কমিটির পরিচালনায় মাছ চাষ হয়ে আসছিল।

কমিটি গত কয়েক বছর ধরে পুকুরটি স্থানীয় মুসুল্লী সাদ্দাম হোসেনের কাছে মাছ চাষের জন্য লিজ দেয়। তার পর থেকে নিয়মিত মাছ চাষ করে আসছিলেন।

পরে বৃহস্পতিবার নুরুজ্জামান তার দলবল নিয়ে হঠাৎ পুকুরে এসে সরকারের কাছ থেকে পুকুর তার নামে লিখিয়ে নিয়ে এসেছেন বলে দাবী করেন এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চলে যান।

বিষ দিয়ে মাছ কেন মারা হয়েছে এবিষয়ে মাছ চাষী সাদ্দাম হোসেন মসজিদ কমিটির কাছে জানতে চান। পরে শুক্রবার স্থানীয়ভাবে শালিস ডাকা হয়। কিন্তু শালিস শুরু হওয়ার আগেই উপস্থিত লোকজনের উপর হামলা চালায় নুরুজ্জামান ও তার ক্যাডার বাহিনী।

মাছ চাষী সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই পুকুরটিতে ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মাছের পোনা ছেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নুরুজ্জামান ও তার ক্যাডার বাহিনী বিষ দিয়ে মাছ গুলো মেরে ফেলায় তার ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫লক্ষ টাকার।

তিনি জানান,তারা ছাত্রলীগের পরিচয়ে এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন । যেহেতু স্থানীয় ভাবে বিচার চেয়ে হামলার শিকার হয়েছি তাই এখন আর আইনের আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই । যে কোনো সময় তার উপর আবারও হামলা চালাতে পারে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী বলেও শঙ্কা করেন তিনি।

এব্যপারে মসজিদ কমিটির সভাপতি মালেক হোসেন ও সেক্রেটারী দীন ইসলাম বলেন, আমাদের মসজিদের পক্ষ থেকে পুকুরটি লিজ দিয়ে যে টাকা আসে তা মসজিদের রক্ষনা-বেক্ষনে ব্যয় করা হয়। হঠাত করেই আমাদের কে কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে নুরুজ্জামান তার দলবল নিয়ে পুকুরটি তার বলে দাবি করে ও বিষ প্রয়োগে মাছ মেরে ফেলে। আমরা শালিস ডাকলেও তাতে সে কর্ণপাত না করে উল্টো মসজিদের স্বার্থে কথা বলা লোকদের উপর হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত নূরু বাহিনীর প্রধান নুরুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন টি বন্ধ পাওয়া যায় ।
ponchomalo24

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *