Breaking News

মহামা’রি ভুলে ম’দে মাতলো ভা’রত, বোতলের জন্য বিশাল লাইন।

চীনের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করো’নাভাই’রাস। ভা’রতেও হানা দিয়েছে প্রা’ণঘাতী এই ভাই’রাস। করো’নার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাট বন্ধ। এরই মধ্যে লকডাউন শিথিল করায় ভা’রতে ম’দের দোকানগুলোতে হু’মড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। দেশের কোনও কোনও অঞ্চলে ভিড় সামলাতে লা’ঠি চালাতে হয়েছে পু’লিশকে।

দিল্লিতেও ম’দের দোকানের সামনে ছিলো ঠাসাঠাসি ভিড় এবং বিশাল লাইন। কোনও কোনও জায়গায় দোকানের তিনটি কাউন্টার থেকে ম’দ বিক্রি করা হচ্ছিলো। প্রতিটি কাউন্টার থেকে লাইন এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছিল কয়েক কিলোমিটার। একজনের গায়ের ওপরে অন্যজন দাঁড়িয়ে।

জার্মানিভিত্তিক সংবাদসংস্থা ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র দিল্লিতেই ৮৫০টি ম’দের দোকান আছে। তার মধ্যে কিছু দোকান সরাসরি সরকার চালায়। পু’লিশের নির্দেশিকা মেনে সরকারি ম’দ বিক্রির দোকান সকাল নয়টা থেকেই খুলে যাবে। সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তা খোলা থাকবে।

সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার দিল্লিতে ১৫০টির মতো ম’দের দোকান খুলেছিলো। কিন্তু সেখানে এত ভিড় হয়েছিলো যে এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে তা বন্ধ করে দিতে হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া নির্দেশ আছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কা’শ্মীরি গেট এলাকায় একটি ম’দের দোকানের সামনে পু’লিশ লা’ঠি চালিয়েছে। ম’দের দোকানের মালিকদের বলা হয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা করে যেন ম’দ বিক্রি করা হয়।

অন্য রাজ্যের অবস্থাও কম বেশি একই। অন্ধ্র প্রদেশেও ম’দের দোকানের ভিড় সামলাতে লা’ঠি চালিয়েছে পু’লিশ।

উত্তর প্রদেশেও ম’দের দোকানের সামনে পু’লিশকে লা’ঠি চালাতে হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে প্রথম দিনেই রেকর্ড ১০০ কোটি টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে। এমনিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কোটির বিক্রি হয়। সোমবার কম সময়ের জন্য দোকান খুলেছিলো। তা সত্ত্বেও বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু লখনউতেই ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার ম’দ বিক্রি হয়েছে।

কলকাতাতেও ম’দের দোকানের সামনে বিশাল লাইন ছিলো। সেখানেও পু’লিশকে একাধিক জায়গায় লা’ঠি চালিয়ে ভিড় সামলাতে হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুপুর-বিকেলের মধ্যেই দোকানের স্ট’ক শেয হয়ে যায়।

এদিকে ভা’রতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, কেউ রবিবার রাত থেকেই দোকানের সামনে। কেউ ইট পেতে লাইন রেখেছেন। জলপাইগুড়িতে তো অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেও লাইন ছাড়েননি। সোমবার বেলা ৩টার সময় যখন ম’দের দোকান খুলল, রাজ্যের বহু জায়গায় লাইন ছড়িয়ে গিয়েছে প্রায় এক কিলোমিটার, দূরত্ববিধি শিকেয় তুলেই। লাইনে পাঁচ জনের বেশি দাঁড়ানো যাবে না, এ কথা মানে কে? তবে মাস্ক ছাড়া ম’দ দেওয়া হবে না, এই শর্ত থাকায় লাইনে মাস্ক পরেছিলেন প্রায় সকলেই।

ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কি থামাতে কলকাতার কালীঘাট, চাঁদনি চক, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমা’রে পু’লিশ লা’ঠি নিয়ে তেড়ে যায়। গোলমাল পাকানোর অ’ভিযোগে পু’লিশ নন্দকুমা’রে দু’জনকে গ্রে’ফতারও করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, বসিরহাটেও সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়।

ম’দের দোকান যে সোমবার খুলবে, তার আভাস আগেই ছিল। রাজ্যের আবগারি কমিশনার উমাশঙ্কর সোমবারেই একটি নির্দেশিকায় বেলা ১২টা থেকে বেশ কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে ম’দ বিক্রির অনুমতি দেন। তার পরে অধিকাংশ জায়গাতেই ম’দ বিক্রি শুরু হয়েছে বেলা ৩টা থেকে। নির্দেশ অনুযায়ী, এক বার এক জন শুধু দু’টো বোতলই কিনতে পারবেন। কলকাতায় দেখা যায়, অনেকে এক বার বোতল কিনে কাছের ফলের দোকান থেকে কালো পলিপ্যাক কিনে নিচ্ছেন, তার পর তাতে বোতল মুড়ে কারও হাত দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছেন। দোকান বন্ধ হয় সন্ধে ৭টার মধ্যে।

ম’দের দোকান খোলার বি’রুদ্ধে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বাজারে বি’ক্ষোভ দেখান মহিলারা। তাঁদের অ’ভিযোগ, লকডাউনে কাজ হারিয়ে এমনিতেই অনেক পরিবার সমস্যায় রয়েছে। এর মধ্যে ম’দের দোকান খুললে বহু পরিবারে অশান্তি চরমে উঠবে, মত্তদের উপদ্রবও বাড়বে। আবগারি দফতরের জে’লা আধিকারিক যতন মণ্ডল বলেন, ‘‘পু’লিশকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।’’

অ’ভিযোগ উঠেছে, মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ, কান্দি, বেলডাঙা, হাওড়ার ধুলাগড় এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কোথাও কোথাও দোকানের কাছে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে অনেকে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

মুর্শিদাবাদের আবগারি দফতরের এক আধিকারিক জানান, কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। একই কথা বলেন জে’লার পু’লিশক’র্তারাও। মালদহের পু’লিশ সুপার অলোক রাজো’রিয়াও বলেন, ‘‘দূরত্ব মেনে চলতেই হবে। অন্য নিয়মগুলোও মানতে হবে। দোকান মালিকদেরও সে-কথা বলা হয়েছে।’’

About admin

Check Also

মুসলমানদের আজানে শুধু শব্দ দূষণই হয়না বরং মানুষের অসুবিধাও হয়

ভারতের উত্তর প্রদেশে শব্দ দূষণের কারণ হিসেবে আজান, অখন্ড রামায়ন, কীর্তন, কাওয়ালি প্রভৃতিকে দায়ি করেছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *