ওসি মিজানের দৈনিক চাঁদাবাজি ৫ লাখ টাকা!

নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের চাঁদাবাজির গল্প এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। হেন কোনো সেক্টর নেই, যেখানে হাত দেননি মিজান।

দুর্গাপুর থানার দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছেন। তবে এসব নিয়ে বলাবলি হচ্ছে তখন যখন মিজানকে বদলি করা হয়েছে দুর্গাপুর থানা থেকে। এতদিন ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে পারেননি।

সম্প্রতি আলম তালুকদার নামে এক যুবলীগ নেতাকে থানায় এনে মারধর করেছিলেন ওসি মিজান। এই ঘটনায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয় দলীয় একটি অংশ।

আস্তে আস্তে তার চাঁদাবাজির তথ্যও বের হতে থাকে। এমতাবস্থায় ১৩ আগস্ট তাকে দুর্গাপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। বদলির পর জানা যায় ভয়াবহ সব তথ্য। বড় বড় শপিংমল থেকে শুরু করে বাজারের অস্থায়ী যে চায়ের দোকান, সেখান থেকেও চাঁদা নিতেন মিজান।

কমবেশি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা ছিল মিজানের প্রতিদিনকার চাঁদা। এজন্য চোরাকারবারি থেকে যৌনকর্মী পর্যন্ত হাত বাড়িয়েছেন এই ওসি।

স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে তৈরি একটি দল ছিল ওসির, যারা সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে চাঁদা তুলে জমা দিতেন ওসির হাতে। যারা তুলতেন, তাদেরও ছিল একটা কমিশন।

এছাড়া ওসি মিজানের প্রশ্রয়ে যে কোনো অপরাধ করে পার পাওয়ার অলিখিত লাইসেন্স ছিল তাদের হাতে।

দুর্গাপুর থানার নতুন ওসি শাহ নুর আলম বলেন, আমি মাত্রই যোগদান করেছি। আগের কোনো ব্যাপারে আমি বলতে পারবো না। তবে এটুকু বলতে পারি, এখন থেকে থানায় আর কোনো টাকার লেনদেন হবে না।

এলাকার সবাই নির্বিঘ্নে ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারবে। চাঁদাবাজির ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।
24livenewspaper

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *