লাদাখে ভারত-চিন সং’ঘর্ষ, ১ ভারতীয় কর্নেল সহ ২ সেনা জওয়ানের মৃ’ত্যু।

লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ও চিন সেনার সঙ্ঘাত এবার গড়াল র’ক্তক্ষ’য়ী সংঘ’র্ষে। সোমবার রাতে গলওয়ান উপত্যাকায় চিন সেনার হা’ম’লায় ভারতীয় সেনার এক কর্নেল এবং দুই জওয়ান নি’হ’ত হয়েছেন।

সেনা সূত্রের খবর, সংঘ’র্ষে গো’লাগু’লি চলেনি। পাথর এবং রড নিয়ে মা’রামা’রিতে চিনের সেনারও মৃ’ত্যু হয়েছে বলে সেনাসূত্রের খবর। ঘটনার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়ত দুপুরে স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

গতকালই দু’পক্ষের ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছিল। তার পরেই চিনের হা’মলা। ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গলওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলাকালীনই গতকাল রাতে হঠাৎ সংঘ’র্ষ বাধে। তাতেই ভারতীয় সেনার এক অফিসার এবং দুই জওয়ানের মৃ’ত্যু হয়েছে। দু’পক্ষের উচ্চপর্যায়ের অফিসারেরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠক করছেন।’

’ চিনের সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে রয়েছেন ৩ নম্বর পদাতিক ডিভিশনের প্রধান, মেজর জেনারেল অভিজিৎ বাপত। তবে ঠিক কী কারণে রা’তের অন্ধকারে দু’পক্ষের সংঘ’র্ষ শুরু হল, তা নিয়ে কিছু বলা হয়নি সেনা বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে।

রাজনাথ এদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পূর্ব লাদাখের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। সেনা সূত্রের খবর, হতাহত অফিসার ও জওয়ানেরা ১৬ বিহার রেজিমেন্টের। এক কর্নেল, এক জুনিয়র কমিশনড অফিসার এবং এক রাইফেলম্যান রয়েছে এই তালিকায়। আ’হ’ত হয়েছেন কয়েকজন সেনা। অন্যদিকে,

বেজিংয়ের তরফে এদিন গলওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে চিন সেনার মৃ’ত্যু’র ঘটনা স্বীকার করা হয়েছে। নয়াদিল্লির উদ্দেশে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়াংয়ের হুঁশিয়ারি, ‘একতরফা পদক্ষেপ করবেন না।’ চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের দাবি, ভারতীয় সেনাই প্রথম হাম’লা চালিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্রের খবর, চিনের অন্তত পাঁচ সে’নার মৃ’ত্যু এবং একডজন সে’না আ’হ’ত

৪৫ বছর পরে চিনা হাম’লা’য় ভারতীয় সে’নার ভারতীয় সে’নার মৃ’ত্যু’র ঘটনা ঘটল। ১৯৭৫ সালে অরুণাচল প্রদেশের চিন টুলুং লায় অসম রাইফেলসের টহলদার বাহিনীর উপর হা’ম’লা চালিয়ে চার জওয়ানকে খুন করেছিল চিনসেনা। ১৯৬৭ সালে সিকিমের নাথু লা এবং চো লায় অনুপ্রবেশকারী লালফৌজকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরে এলাকা ছাড়া করেছিল ভারতীয় সেনা।

মে মাসের গোড়াতেই পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকা, নাকু লা এবং প্যাগং লেকের উত্তরপ্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) পেরিয়ে ভারতীয় এলাকায় কয়েক কিলোমিটার অনুপ্রবেশ করে চিনা ফৌজ তাঁবু খাটিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে। খবর পেয়ে তাদের মুখোমুখি মোতায়েন হয় ভারতীয় সেনা। তার পর থেকে দফায় দফায় সেনাস্তরের বৈঠকেও জট কাটেনি। বেশ কয়েকবার দু’তরফের হাতাহাতি এবং জখমের ঘটনাও ঘটেছে। সেনা সূত্রের খবর, ৬ জুনের বৈঠকের পরে নাকু লায় দু’পক্ষ কিছুটা পিছিয়ে আসে। পিপি-১৫ এবং হট স্প্রিং এলাকাতেও চিন সেনা কিছুটা পিছু হটে যায়। অন্য এলাকাগুলিতে এখনও উত্তে’জনা রয়েছে।

লেহ্ থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি বায়ু’সেনা ঘাঁটির উত্তর অংশ পর্যন্ত ভারতের নয়া রাস্তা নির্মাণ ঘিরেই সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের সূচনা বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এলএসি ঘেঁষা ওই রাস্তা দারফুক, শিয়ক ছুঁয়ে চিন নির্মীত কারাকোরাম পাসের কাছে শেষ হয়েছে। দু’র্গম ওই এলাকায় ভারতীয় ফৌজের যাতায়াতের পথ সুগম হয়ে যাওয়ায় র’ক্তচা’প বেড়েছে ড্রাগনের

anandabazar

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *