এক বাংলাদেশি বীরযো’দ্ধার মৃ’ত্যুতে: ফিলিস্তিনে শোক

এক বাংলাদেশি বীরযো’দ্ধার’ মৃ’ত্যু’তে শোক পালন করছে ফিলিস্তিন। এই বীরযো’দ্ধা আর কেউ নয়। তিনি ‘লিভিং ইগলস’ খ্যাত পাইলট সাইফুল আজম। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যু’দ্ধে তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে যু’দ্ধ করেছিলেন। তার মৃ’ত্যু ও কীর্তি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, ডন, আরব নিউজ, দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সব সংবাদমাধ্যম।

ফিলিস্তিনের হয়ে যু’দ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল মাত্র দুটি আকাশযু’দ্ধে চারটি ইসরাইলি জ’ঙ্গিবিমান ধ্বং’স করেন। আজ পর্যন্ত এককভাবে সর্বাধিক ইসরাইলি বিমান ধ্বং’সের রেকর্ড তার। স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়া বিদেশি এই যো’দ্ধার মৃ’ত্যু’তে তাই ফিলিস্তিনিদের শোক।

ফিলিস্তিনের ইতিহাসবিদ ওসামা আল-আশকার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সাইফুল আজমকে একজন বীর আকাশযো’দ্ধা হিসেবে অভিহিত করে তার মৃ’ত্যুতে শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আমাদের ভাইয়েরা আল-আকসা মসজিদকে প্রতিরোধ ও রক্ষায় আমাদের এই লড়াইয়ের অংশীদার ছিল।’

ফিলিস্তিনের অধ্যাপক নাজি শৌকরি তাদের হয়ে লড়াইয়ে অংশ নেয়া এই বাংলাদেশি বীরযো’দ্ধার মৃ’ত্যু’তে শোক প্রকাশ করে টুইট বার্তায় লিখেছেন, ‘সাইফুল আজম ফিলিস্তিনকে ভালোবাসতেন এবং জেরুজালেমের স্বার্থে লড়াই করেছিলেন।’ শৌকরি সাইফুলকে সালাম জানিয়ে আল্লাহর কাছে তার জন্য অনুগ্রহ কামনা করেছেন।

সাইফুল আজমের মৃ’ত্যু’তে শোক প্রকাশ করে দখলদার ইসরাইলে বিরু’দ্ধে ফিলিস্তিনিদের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই বাংলাদেশিকে ‘ঈগল অব দ্য এয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে যু’দ্ধক্ষেত্রে তার অনন্য অর্জনের কথা তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিনের আরও অনেকেই যো’দ্ধা সাইফুলের মৃ’ত্যু’তে শোক প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের ১৯৮৮ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘৮ হাজার বাংলাদেশি ফিলিস্তিনি মু’ক্তি সংস্থার (পিএলও) হয়ে যু’দ্ধ করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক হয়েছিল।’ ১৯৮১ ও ১৯৮৭ সালে ইয়াসির আরাফাত ঢাকায় এসে বাংলাদেশিদের ফিলিস্তিনের সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

যু’দ্ধক্ষেত্রে অনন্য সব অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সাইফুল আজমকে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনী বিশ্বের ২২ জন ‘লিভিং ইগলস’ এর একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় । জর্ডান ও ইরাক তাকে সম্মাননা দিলেও মার্কিন বিমানবাহিনীর দেয়া এই উপাধিকে সর্বোচ্চ উপাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

লড়াকু এই আকাশযো’দ্ধা রোববার দুপুর দেড়টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ’ত্যুব’রণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। সাইফুল আজমের জন্ম ১৯৪১ সালে পাবনা জেলায়।

বাবার চাকরীর সুবাদে তার শৈশব কেটেছে কলকাতা শহরে। দেশভাগের সময় তার পরিবার ফিরে আসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। এরপর ১৪ বছর বয়সে শিক্ষার উদ্দেশে তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো হয়। ১৯৬০ সালে পাইলট অফিসার হয়ে শিক্ষা সম্পন্ন করে ওই বছরই পাইলট হিসেবে যোগ দেন পাকি’স্তান বিমানবাহিনীতে।

১৯৭১ সালে সাইফুল আজম মুক্তিযু’দ্ধে যোগ দিতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের শুরুতেই তার ওপর পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে সাময়িকভাবে উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে আসেন সাইফুল আজম। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দুবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়ি’ত্বেও ছিলেন তিনি। ১৯৯১-৯৬ সালে পাবনা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাইফুল আজম।
theasianjournals

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *